Notes

কবি মারা গেলে, এইসব কথা হতে থাকে, আহা একলা একলা চলে গেলো। কেউ টের পেল না। সেদিনও দেখলাম কই জানি যাচ্ছে হেঁটে হেঁটে। ঘরকুনা, ভাবুক মানুষটা! বাতাস ভারি হতে থাকে দুঃখে আর আফসোসে। কেউ কেউ বিস্ময় হয় সারা জীবন কি করে একটা ঘরে কাটিয়ে দিলও। কবি হাসে, পাহাড়েরা  হাসে এমন কি খাটের কোনের চাদরও হাসতে থাকে। রোজকার জীবনের দৌড়ঝাঁপ কখনই কবির মন টানে নি। যতটা ভেবছিল পাহাড়কে নিয়ে অথবা বাতাসেরা কি বার্তা পাঠায়, প্রিয় প্রিয় মানুষের কাছে বা বসন্তের বাতসাও কি পাগল করে তুলে মাটির নিচে ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের? এইসব ভেবে কবির দিনরাতের কোন ক্লান্তি ছিল না। বরং নক্ষত্রদের সাথে ভাব হলনা, পাখিরা এসে কোনদিনও তাদের গানের বর্ণনা করল না। এই নিয়ে মনে মনে অভিমান ছিল। রোজকার মরে যাওয়া অথবা বেচে থাকা নিয়ে কবির ততটা ভয় ছিল না, যতটা ছিল অজানাকে।

১৫ই ফাল্গুন ১৪২৬, ধানমণ্ডি, ঢাকা

আমরা স্ট্রেসের  জন্য চিৎকার করি ? মায়ের সাথে? কেন মা চুপ করে থাকে? মা কি জানতো  জীবনের পথে পথে এইখানে সেইখানে মায়ের ওম ছাড়া আর কোথাও মসৃণ পথ নেই?  মা কি ভাবতে থাকে?  অপরাধ বোধে ভুগে ? সে কেন পৃথিবী তার গর্ভের  মত নরম ,উষ্ণ, আর আন্তরিক  করেতে পারে  না? সে কি ভাব এই যে যুদ্ধ চলে পৃথিবীতে, অশান্তি, মারামারি, অমানবিকতা  সব যেনেও  সে  কেন শিশু  পৃথিবীতে আনে? সেই শিশু পৃথিবীর এলোমেলো পথে হাটতে হাটতে ক্লান্ত হয় । মনের মধ্যে ঝড় হয়। মা জানে সে আজীবনের  ছায়া হবে না। পৃথিবী নানান ধরনের উন্নয়নের রোগে ভুগে কোথায় কোথায় ঘুরে ঘুরে পথ হারাচ্ছে। মায়ের কপালে ভাজ পরে তারও  ক্লান্তি লাগে তবুও সন্তানের চিৎকার শুনে।  ভাবে বসন্ত আসে কিন্তু বৃষ্টি পড়ে না কেন?

৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬, ধানমণ্ডি, ঢাকা

শীতের হাওয়া লাগে, যদিও এই গরমে ঘমাতে ঘামতে, লিখতে লিখতে কাহিল আমি! তবুও শীতের হাওয়া লাগে, বাসার সামনের গলি চোখের সামনে আসে ! মানুষের কাজের ব্যাস্ততা, ফুটপাথে মাখনাওালা, হইচই এইসব নিয়ে গলি জীবন পায় ! তার প্রাণের উচ্ছ্বাস এই গরমেও মনে আনন্দে দেয় । যেন আনেক আগের লাল রেডিও দিয়ে গান শুনে শুনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শীতের অলস দুপুর দেখি! বাবার আলমারির খোলার শব্দ হয়, সবার ব্যাস্ততা বেড়ে যায়! যার যার আবদার সবাই সামনে চলে যায়। সবার লম্বা লম্বা লিস্ট। মানুষটার হাসি ভরা কৌতুক মুখ। সব শেষে আমি গিয়ে টুকটাক ভাংতি, খুচরা নোট খুঁজে নেই। তখন সে হাসিমুখে বলতে থাকে, আজকাল তোমারও কিছু কিনতে হয়? তাই এই গরমেও, হ্যাঁ এই গরমে শীত লাগে কিন্তু ঠাণ্ডা লাগে না। উষ্ণ ভালবাসায় গলিটা বার বার মনে আসে! সেখানে কোনও হারানোর ব্যাথা নিয়ে কেউ দাঁড়িয়ে থাকে না! তাই শীত না আসলেও গলিতে গলিতে , বাড়ীতে বাড়ীতে শীতের হাওয়া খুঁজতে বলে !

০১.০৯.২০১৯, ধানমণ্ডি, ঢাকা

সব বাড়ীর কথা প্রায় একই! সকালে ঝড়ের মতো ব্যস্ততা, দুপুরে অলস লাগে, ঘুম পায়! সন্ধ্যায় প্রায় প্রায় অর্থহীন লাগে? তারপরও বাড়ীরা আনেক কিছু জানে ! তারা বুঝতে পারে মানুষেরা পাশাপাশি থাকলেও তাদের ভিতরে দেয়াল থাকে! তাই বাড়ীরা, দেয়াল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আশ্রয় দেয় ! ঘুমাতে বলে , ক্লান্তি ভুলতে বলে ! গল্প বলতে চায় ! কোন সকালে কে হেসে হেসে গড়িয়ে পড়ল ! সন্ধ্যায় হয়ত বাড়ী ফিরল না ! অথবা কেউ একজন আর কোনদিন ঘুম থেকে উঠল-ই না! তবুও সে দাঁড়িয়ে থাকে, বছরের পর বছর ! স্মৃতি রেখে দেয় ! কেউ কোনদিন ঘরে না ফিরলেও, মনে রাখে ! কোন কোন দিন, হঠাৎ খুব অবিরত বলে যায়, আজকের বিকাল বিষন্ন, আজকের বিকাল বিষন্ন!

২৪.০৮.২0১৯, ফরাশগঞ্জ, ঢাকা

আমি যেন প্রতিদিন জীবন দেখি এখানে সেখানে। একটা কর্কশ কণ্ঠ বলতে থাকে, থাঙ্কস, থাঙ্কস। ডু ইউ মাইন্ড , ডু ইউ মাইন্ড ? ওরা প্রায় প্রায় ম্যাকডোনাল্ডসের  কর্নার বেছে নেয় ! সেখানে বসে খায়! মাঝে মাঝে সুন্দুর বৃদ্ধা  কণ্ঠ বলে, নো মানি, নো মানি! তার বারবার বলা কথা গান হয়ে বৃষ্টির সাথে মিশে যেতে থাকে। সুন্দর ছন্দ কিন্তু কোনো সীমা অতিক্রম করে না! কর্কশ কণ্ঠ বলে, আই নো, আই নো , ইউ হ্যাভ, আই নো ইউ হ্যাভ ! আই এম নট লাইং! ছোট্ট কুকুরও মাথা নাড়ে, সম্মতি জানায়। যেন পৃথিবীর কোথাও কোনো মিথ্যা নেই! এখানে রোদ উঠে শুধু! কোথাও মেঘ করে না, মন খারাপ হয় না! কর্কশ কণ্ঠ, বৃদ্ধা, কুকুর সবাই যেন কোথাও বসে কোনো কথা বলে নি ! প্রতিদিন টেবিলের কর্নার কেবল খালি পরে থাকে। তারপরও কর্কশ কণ্ঠ ও বৃদ্ধা যেন বলতে থাকে, রেইন স্টপ, রেইন স্টপ।

২০.৬.২০১৯, নিউইয়র্ক